বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬:২৬ ১৬ই জুলাই, ২০২০ ইং ২৫শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী বর্ষাকাল
বিচিত্র-বিশ্ব

ইতিহাসের প্রাণঘাতী ১০ ভূমিকম্প

আপডেটঃ

উৎপত্তিস্থল নেপাল থেকে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে গত ২৫ এপ্রিল (শনিবার) কেঁপে উঠল নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশসহ আশপাশের এলাকা। সর্বশেষ পাওয়া খবরে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নেপালেই নিহতের সংখ্যা ছয় সহস্রাধীক। যদিও আশঙ্কা, দশ হাজার ছাড়িয়ে যাবে এ সংখ্যা। তবে এমন প্রলয় এই প্রথম নয়। বিশ্বে এর আগেও বহু প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প কেড়ে নিয়েছে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ। এনবিসি নিউজ অবলম্বনে এমনই প্রাণঘাতী ১০ ভূমিকম্পের খবর :

শিনসি, চীন : ২৩ জানুয়ারি, ১৫৫৬

এদিন চীনের বর্তমান শানজি প্রদেশের পূর্বনাম শিনসিতে প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পে আনুমানিক ৮ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। প্রায় ৫০০ মাইল দূর থেকে অনুভূত এ ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়ে ২৭০ মাইল বিস্তৃত এলাকাজুড়ে।

তংশান, চীন : ২৭ জুলাই, ১৯৭৬

ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। তবে প্রাণহানির মাত্রা ছিল কল্পনাতীত। আনুষ্ঠানিক হিসাবমতে ২ লাখ ৫৫ হাজার লোকের মৃত্যুর কথা বলা হলেও ধারণা করা হয়, অন্তত ৬ লাখ ৫৫ হাজার লোকের জীবন কেড়ে নেয় গত চার শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ ভূমিকম্প।

আলেপ্পো, সিরিয়া : ৯ আগস্ট, ১১৩৮

রিখটার স্কেলের মাত্রা না জানা গেলেও, এ ভূমিকম্পে প্রাণহানির যে সংখ্যা জানা যায় তা ২ লাখ ৩০ হাজারের কম নয়। শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে ২২০ মাইলের মধ্যে অবস্থিত বড় বড় স্থাপনা মাটির সাথে মিশে গিয়ে মানচিত্রই বদলে দিয়েছিল সিরিয়া ও তুরস্ক অঞ্চলের।

সুমাত্রা, ইন্দোনেশিয়া : ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৪

শুধু সুদূর অতীতে নয়, সাম্প্রতিক ইতিহাসেও আছে লাখো প্রাণহন্তারক ভূমিকম্পের স্মৃতি। ৯.১ মাত্রার এ ভূমিকম্পে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৯৮ জন নিহত অথবা নিখোঁজ হন। এছাড়া ভূমিকম্প পরবর্তী সুনামি গৃহহীন করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১৪টি দেশের অন্তত ১৭ লাখ মানুষকে।ইতিহাসের প্রাণঘাতী ১০ ভূমিকম্প
হাইতি : ১২ জানুয়ারি, ২০১০

এই শতাব্দীর আরেকটি প্রলয়ংকরী দুর্যোগ এটা, যা প্রাণ কেড়ে নেয় অন্তত ২ লাখ ২২ হাজার ৫৭০ জনের। আহত করে আরো ৩ লক্ষাধিক। ৯৭ হাজার ২৯৪টি ঘরবাড়ি পুরোপুরি ধ্বংসে হলে গৃহহীন হয়ে পড়ে ১৩ লাখ বাসিন্দা।

দামঘান, ইরান : ২২ ডিসেম্বর, ৮৫৬

সংরক্ষিত তথ্যমতে ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো এ দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় উত্তর-পূর্ব ইরানের ২০০ মাইল বিস্তৃত এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো ছাড়াও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় প্রতিবেশী এলাকা।

হাইয়ুয়ান-নিংজিয়া, চীন : ১৬ ডিসেম্বর, ১৯২০

চীনের জন্য আরেকটি বড় দুর্যোগ, যা ২ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। এর মধ্যে হাইয়ুয়ানে নিহত হন প্রায় ৭৩ হাজার আর নিংজিয়ায় মারা যায় অন্তত ৩০ হাজার। ভূমিকম্পের ফলে ভূ-পৃষ্ঠে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়। মরে যায় অনেক নদী, গতিপথও বদলে যায় বেশ কিছুর।

আরদাবিল, ইরান : ২৩ মার্চ, ৮৯৩

৮৫৬ সালের ক্ষত না শুকাতেই আরেকটি বড় আঘাতের শিকার হয় ইরান। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর এবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় তা-ব চালিয়ে ভূমিকম্প প্রাণহানি ঘটায় দেড় লক্ষাধিক লোকের। একই এলাকায় আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল ১৯৯৭ সালে।

কান্তো, জাপান : ১ সেপ্টেম্বর, ১৯২৩

তখনও ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত হন ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ লোক। টোকিও ও ইউকোহামা এলাকায় ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট আগুন দাবানলে রূপ নিলে ৬ লাখ ৯৪ হাজার ঘরবাড়ির মধ্যে ৩ লাখ ৮১ হাজার ঘরবাড়ি পুরোপুরি কিংবা আংশিক ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, যা ইতিহাসে দ্য গ্রেট টোকিও আর্থকোয়াক বা গ্রেট টোকিও ফায়ার নামে পরিচিত।

আশখাবাদ, তুর্কেমিনিস্তান : ৫ অক্টোবর, ১৯৪৮

ভূমিকম্প নিয়েও রাজনীতি হয়েছে। তখনকার সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ হওয়ায় ৭ দশমিক ৩ মাত্রার এ ভূমিকম্পে প্রাণহানি দেখানো হয়েছিল ১০ হাজার লোকের। তবে ১৯৮৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর সরকারি তথ্য থেকে জানা যায়, প্রকৃত প্রাণহানির সংখ্যা ১ লাখ ১০ হাজার।

তবে রিখটার স্কেলে মাত্রার দিক থেকে এ যাবৎকাল পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয় ১৯৬০ সালের ২২ মে চিলির ভালদিবিয়া। ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে ১ হাজার ৬৫৫ জন নিহত ও ৩ হাজার মানুষ আহত হন। এছাড়া ভয়াবহ ভূমিকম্পের কথা উঠলেই মনে পড়ে ২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের সেন্দাইয়ে ৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের কথা। ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন এতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close