বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:২৪ ১৬ই জুলাই, ২০২০ ইং ২৫শে জিলক্বদ, ১৪৪১ হিজরী বর্ষাকাল
বাংলাদেশ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবিতে শ্রীমঙ্গলে মানববন্ধন

আপডেটঃ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও এই আইনে দায়ের করা মামলায় সিরাজুম মুনিরা, দিদার, কিশোর, মোস্তাক, কাজলসহ আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শ্রীমঙ্গলের সম্মিলিত নাগরিক সমাজ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার চৌমোহনায় এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও এই আইনে দায়ের করা মামলায় সিরাজুম মুনিরা, দিদার, কিশোর, মোস্তাক, কাজলসহ আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে শ্রীমঙ্গলের সম্মিলিত নাগরিক সমাজ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার চৌমোহনায় এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সম্মিলিত নাগরিক সমাজের সংগঠক প্রীতম দাশের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন, মানবাধিকার কর্মী ও এশিয়ান টেলিভিশনের প্রতিনিধি এস কে দাশ সুমন, এডভোকেট আবুল হাসান, সিলেটটুডের প্রতিনিধি হৃদয় দাশ শুভ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার সম্পাদক জলি পাল, কবি জাভেদ ভুঁইয়া, ছাত্র ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক পিনাক দেব, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সদস্য আবুল হাসানসহ অন্যরা।

সমাবেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও এই আইনে দায়ের করা সকল মামলায় গ্রেপ্তার দিদার, মোস্তাক, কাজল ও কিশোরসহ সবার মুক্তির দাবি জানানো হয়।

এদিকে সম্প্রতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারকৃত ও বহিষ্কৃত শিক্ষক সিরাজুম মুনিরা এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী সাদিক, মাহিরসহ সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ বাতিলের দাবিও জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্র ক্রমাগতভাবে সংকুচিত হচ্ছে এবং বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একের পর এক মামলার মাধ্যমে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমকে কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছে। এই প্রবণতা ভয়ের সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করছে, যা মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যম তথা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। গোটা দেশবাসী গভীর বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে, গত কয়েকদিন ধরে দেশের কয়েক জায়গায় বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে সরকারের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলার অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার ওপর লেখালেখি করার কারণে বেশ কয়েকজনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নতুন করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ৫ মে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট , লেখক, ব্যবসায়ী ও পাঁচ থেকে ছয়জন অজ্ঞাতনামাসহ ১৬ থেকে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে র‍্যাব। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। যথাক্রমে আহমেদ কবির কিশোর (কার্টুনিস্ট), দিদারুল আলম ভূঁইয়া (সমাজকর্মী), মোস্তাক আহম্মেদ (ব্যবসায়ী) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক মিনহাজ মান্নানকে।

এর আগে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে নাটকীয়ভাবে ৫৩ দিন পর ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ও পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, দেশে একটি কার্যকরী মানহানি আইন থাকা সত্ত্বেও নির্যাতন ও হয়রানির উদ্দেশে ডিজিটাল আইনকেই বার বার ব্যবহার করছে সরকার। মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে পেছনে হাতমোড়া অবস্থায় হ্যান্ডকাফ পড়া সাংবাদিকের ছবিসহ সংবাদ, ডিজিটাল আইনকে সরকার কীভাবে সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে চলছে তার একটি উৎকৃষ্ট প্রমাণ। গণতান্ত্রিক অধিকার তো দূরে থাকুক মানুষ তার কষ্টের কথাও যাতে ভার্চুয়াল জগতে প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য একের পর এক পরিপত্র জারি করে চলেছে সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close