শনিবার দুপুর ১:৩৯ ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ২০শে রবিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি হেমন্তকাল
বাংলাদেশ

আর কিছু মানুষ পানির ভিতরে আমরা নীরব !

আপডেটঃ জুলাই ২৮, ২০২০

বানের পানি হামলে পড়ছে ঢাকার চারদিকে। ফুলে-ফেঁপে উঠছে চারপাশের নদ-নদী। দিন যত যাচ্ছে, বিপত্সীমার ওপরে পানি ওঠা নদীর সংখ্যা বাড়ছেই। বাড়ছে বিপত্সীমার ওপরে ওঠা স্টেশনের সংখ্যাও। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন। উত্তর জনপদ এখনো বানে ভাসছে, সিলেট অঞ্চলেও দেখা দিয়েছে নতুন করে বন্যার শঙ্কা। রাজধানীতে কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় থামছে না আকাশভাঙা বৃষ্টি। তার পরও টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে হাঁসফাঁস করছে রাজধানীবাসী। বেশির ভাগ সড়কে কোমরপানি থাকায় ভোগান্তিকে সঙ্গী করে চলতে হচ্ছে পথ। জাতিসংঘ ইঙ্গিত দিয়েছে, ১৯৮৮ সালের পর বাংলাদেশের এবারের বন্যা বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। জুলাই পেরিয়ে আগস্টের প্রথম সপ্তাহেও বন্যার পানি থাকতে পারে। জাতিসংঘের মতে, বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বর্ষণের ফলে কোথাও কোথাও এরই মধ্যে একাধিকবার বন্যা দেখা দিয়েছে। মাঝেমধ্যে ক্ষণিক বিরতির পর মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ এখনো অব্যাহত রয়েছে। এবার শ্রাবণের শুরু থেকেই প্রবল বর্ষণ দেখা দিয়েছে। অথচ এর আগেই ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও পদ্মা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে বেশ কিছু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। বানে ভাসা মানুষের আশ্রয়ের স্থান এখন আর তেমন নেই বললেই চলে। ভারি বর্ষণের ফলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যায়নি। কোথাও কোথাও পানি কিছুটা কমলেও আবার বর্ষণে সব তলিয়ে গেছে। তার পরও বানে ভাসা মানুষের জন্য দুঃসংবাদ হচ্ছে, শ্রাবণের বাকি সময়টায় এমনই ধারায় বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আরেকবার বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা, এমনকি মেঘনা অববাহিকা আবার বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এমন দুঃসময় সচরাচর দেখা যায় না। একদিকে করোনার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব, অন্যদিকে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি। আশির দশকের মাঝামাঝি দেশে যে প্রবল বন্যা দেখা দিয়েছিল, তখন দেশের পরিকল্পনাবিদরা এর নিরসন কিংবা প্রতিকার হিসেবে বেশ কিছু স্থায়ী ব্যবস্থার কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক গোলযোগ ও বিভিন্ন অজ্ঞাত কারণে তা আর বেশি দূর এগোয়নি। তখন থেকে এবারের আগ পর্যন্ত বড়মাপের তেমন দুর্যোগ দেখা না দিলেও বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন নিম্ন এলাকায় প্লাবন দেখা দেওয়া কিংবা নদীর কয়েকটি বাঁধ ভেঙে যাওয়া বা তাতে ফাটল দেখা দেওয়া অব্যাহত ছিল। তা ছাড়া ব্রহ্মপুত্র, যমুনা কিংবা পদ্মা অববাহিকায় নদীভাঙনের মতো বিপর্যয়ের ফলে এরই মধ্যে বহু মানুষ জমিজমা ও ঘরবাড়ি হারিয়ে শহরমুখী হয়েছে। সেসব ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এ কথা অনস্বীকার্য যে প্রমত্তা পদ্মার ওপর দীর্ঘ সেতু নির্মাণ, সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ দেশে ব্যাপক শিল্পাঞ্চল ও নৌবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বড় নদীগুলোকে কেন্দ্র করে বন্যা কিংবা ভাঙন ঠেকানোর ক্ষেত্রে কোনো সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা এখনো তেমনভাবে কার্যকর হয়নি। প্রস্তাবিত সমুদ্র উপকূলবর্তী বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ অসংখ্য নদী-নদীর অব্যাহত ভাঙন থেকে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়টিও কম জরুরি নয়। যমুনার বঙ্গবন্ধু সেতুর আশপাশের জনপদগুলো এককথায় বলতে গেলে বিগত বছরগুলোতে ক্রমাগত ভাঙনের কারণে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা ও কৃষিজমি। এই একই দৃশ্য শুধু ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা কিংবা মেঘনা অববাহিকায় নয়, সব দেশের অন্যান্য প্রবহমান নদীকে কেন্দ্র করেও প্রতিফলিত হচ্ছে। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ার ফলে তারা বর্ষা কিংবা ওপর থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ধরে রাখতে পারছে না। ফলে ভাসিয়ে নিচ্ছে দুই কূলের জনপদ। অব্যাহত ভাঙনে নিশ্চিহ্ন করছে জনপদ। এর স্থায়ী সমাধান সহজ নয়। তবু এর বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!
Close
Close